দৈনিক বর্তমান দেশবাংলা
ঢাকা , রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ :
Logo চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলনে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের জোর দাবি মোঃ ফেরদৌসের Logo ভিকটিম সাপোর্ট এন্ড হিউম্যান রাইটস্ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরাইল উপজেলা শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ এর আয়োজনে শোক সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo নাসিরনগরে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় সদকা হিসেবে খাসির মাংস বিতরণ Logo কোট্টাপাড়া হাইওয়ে রাস্তার পাশে শিল্প ও পূর্ণ মেলা যানজটে ভোগান্তি দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ Logo স্বপ্নের শাহজাদাপুর ব্রিজ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, উদ্বোধনের আগেই ভেঙে পড়ার আশঙ্কা Logo ৯ মাস পর শিশুর লাশ উত্তোলন, পুনঃময়নাতদন্তের নির্দেশে এলাকায় চাঞ্চল্য Logo বড় খাল ভরাট করে কালভার্ট নির্মাণ, পানি নিস্কাশনে হুমকি — শঙ্কায় গ্রামবাসী Logo ফসলি জমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে ইটভাটায় , ধ্বংসের মুখে কৃষিজমি— এলাকাবাসীর প্রতিবাদ Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল জায়গা বিরোধের জের ধরে একই গোষ্ঠীর মাঝে সংঘর্ষ, যৌথবাহিনির কাছে আটক নতুন জামাই
বিজ্ঞপ্তি :

ফাসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা আজহারের আপিলের রায় আগামীকাল

নিজস্ব প্রতিনিধি: একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। মামলার দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশের বিচার ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আপিল বিভাগের রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে মঙ্গলবার (২৭ মে)। ওই দিন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চ রায় ঘোষণা করবেন। আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির জানিয়েছেন, রায়কে কেন্দ্র করে তাঁদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তাঁর আশা, এটিএম আজহারুল ইসলাম খালাস পাবেন।

এর আগে গত ৮ মে শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য এই তারিখ ধার্য করে। আদালতে জামায়াত নেতার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শিশির মনিরের নেতৃত্বে একটি আইনজীবী দল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম।

২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এটিএম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। রংপুর অঞ্চলে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গণহত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, আটক, নির্যাতন, গুরুতর জখম এবং বাড়িঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মোট নয় ধরনের ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধে তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়। ট্রাইব্যুনাল ২ নম্বর, ৩ নম্বর ও ৪ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ ও ৬ নম্বর অভিযোগে যথাক্রমে ২৫ বছর ও ৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন।

পরবর্তীতে, ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আজহারুল ইসলামের পক্ষে আপিল করা হয়। ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং ৫ নম্বর অভিযোগে তাঁকে খালাস দেন। আদালতে ওই সময় আসামিপক্ষে ছিলেন প্রয়াত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রয়াত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয় ২০২০ সালের ১৫ মার্চ। এরপর একই বছরের ১৯ জুলাই এই রায়ের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করা হয়। এতে ২৩ পৃষ্ঠার আবেদনে ১৪টি যুক্তি তুলে ধরা হয়। দীর্ঘ শুনানির পর ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই মামলায় পুনরায় পূর্ণাঙ্গ আপিল শুনানির অনুমতি দেয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা, যেখানে রিভিউ থেকে পূর্ণাঙ্গ আপিল শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়।

এটিএম আজহারুল ইসলাম ২০১২ সালের ২২ আগস্ট রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার হন এবং তখন থেকেই তিনি কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

এই রায় শুধু একজন ব্যক্তির নয়, বরং পুরো দেশের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। রায়ের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।

ট্যাগস :

সম্পাদক

মোঃ হেলাল উদ্দিন

নির্বাহী সম্পাদক

আপলোডকারীর তথ্য

Admin H

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলনে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের জোর দাবি মোঃ ফেরদৌসের

ফাসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা আজহারের আপিলের রায় আগামীকাল

আপডেট সময় ০৭:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ মে ২০২৫

নিজস্ব প্রতিনিধি: একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। মামলার দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশের বিচার ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আপিল বিভাগের রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে মঙ্গলবার (২৭ মে)। ওই দিন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চ রায় ঘোষণা করবেন। আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির জানিয়েছেন, রায়কে কেন্দ্র করে তাঁদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তাঁর আশা, এটিএম আজহারুল ইসলাম খালাস পাবেন।

এর আগে গত ৮ মে শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য এই তারিখ ধার্য করে। আদালতে জামায়াত নেতার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শিশির মনিরের নেতৃত্বে একটি আইনজীবী দল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম।

২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এটিএম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। রংপুর অঞ্চলে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গণহত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, আটক, নির্যাতন, গুরুতর জখম এবং বাড়িঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মোট নয় ধরনের ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধে তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়। ট্রাইব্যুনাল ২ নম্বর, ৩ নম্বর ও ৪ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ ও ৬ নম্বর অভিযোগে যথাক্রমে ২৫ বছর ও ৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন।

পরবর্তীতে, ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আজহারুল ইসলামের পক্ষে আপিল করা হয়। ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং ৫ নম্বর অভিযোগে তাঁকে খালাস দেন। আদালতে ওই সময় আসামিপক্ষে ছিলেন প্রয়াত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রয়াত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয় ২০২০ সালের ১৫ মার্চ। এরপর একই বছরের ১৯ জুলাই এই রায়ের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করা হয়। এতে ২৩ পৃষ্ঠার আবেদনে ১৪টি যুক্তি তুলে ধরা হয়। দীর্ঘ শুনানির পর ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই মামলায় পুনরায় পূর্ণাঙ্গ আপিল শুনানির অনুমতি দেয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা, যেখানে রিভিউ থেকে পূর্ণাঙ্গ আপিল শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়।

এটিএম আজহারুল ইসলাম ২০১২ সালের ২২ আগস্ট রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার হন এবং তখন থেকেই তিনি কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

এই রায় শুধু একজন ব্যক্তির নয়, বরং পুরো দেশের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। রায়ের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।